Saturday, January 21, 2017
Friday, January 20, 2017
Children don't get justice: Men and Children Repression Prevention Act deserves time
Violence against women is mostly caused by man. But Male violence happened by both woman and man. To protect women there are so many laws in the countries. But there is not law for male to protect them from violence against them. To protect male and child from abusing laws are needed to pass for them.
In those laws it should be added that the lovers of ones wife are guilty to make extra-marital-affair with a married woman. It means that extra-marital-affair is a sin and a offense according to those laws.
Jenifer, a 5 years old child lost her mother. Because her mother was fallen into extra-marital-affair with Mr. Maruf. Her mother had been maintaining physical relation with him for 2 years. Once upon a time Jenifer's father realized about the matter. Then divorced his wife taking the child with him. Now Jenifer stays with her father. He father has married again. But Jenifer's sorrows are why she lost her mother? Who are guilty? Is it her mother only? No, Mr. Maruf, lover of her mother is also guilty.
But there is not law in the world for Jenifer. She born in the world innocent. But she fallen in a terrible within her 5 years.
People talks about the woman abusing world wide. But there is none to talk for Jenifer. Where most of the abusing women were not fresh from themselves. The most of the women violence are happened for some offense caused by them.
Jenifer's offense is to come in this earth.
In those laws it should be added that the lovers of ones wife are guilty to make extra-marital-affair with a married woman. It means that extra-marital-affair is a sin and a offense according to those laws.
Jenifer, a 5 years old child lost her mother. Because her mother was fallen into extra-marital-affair with Mr. Maruf. Her mother had been maintaining physical relation with him for 2 years. Once upon a time Jenifer's father realized about the matter. Then divorced his wife taking the child with him. Now Jenifer stays with her father. He father has married again. But Jenifer's sorrows are why she lost her mother? Who are guilty? Is it her mother only? No, Mr. Maruf, lover of her mother is also guilty.
But there is not law in the world for Jenifer. She born in the world innocent. But she fallen in a terrible within her 5 years.
People talks about the woman abusing world wide. But there is none to talk for Jenifer. Where most of the abusing women were not fresh from themselves. The most of the women violence are happened for some offense caused by them.
Jenifer's offense is to come in this earth.
Victims of domestic violence are men
About two in five of all victims of domestic violence are men,
contradicting the widespread impression that it is almost always women
who are left battered and bruised, a new report claims.
Men assaulted by their partners are often ignored by police, see
their attacker go free and have far fewer refuges to flee to than women,
says a study by the men's rights campaign group Parity.
The charity's analysis of statistics on domestic violence shows the
number of men attacked by wives or girlfriends is much higher than
thought. Its report, Domestic Violence: The Male Perspective,
states: "Domestic violence is often seen as a female victim/male
perpetrator problem, but the evidence demonstrates that this is a false
picture."
Data from Home Office statistical bulletins and the British Crime
Survey show that men made up about 40% of domestic violence victims each
year between 2004-05 and 2008-09, the last year for which figures are
available. In 2006-07 men made up 43.4% of all those who had suffered
partner abuse in the previous year, which rose to 45.5% in 2007-08 but
fell to 37.7% in 2008-09.
Similar or slightly larger numbers of men were subjected to severe
force in an incident with their partner, according to the same
documents. The figure stood at 48.6% in 2006-07, 48.3% the next year and
37.5% in 2008-09, Home Office statistics show.
The 2008-09 bulletin states: "More than one in four women (28%) and
around one in six men (16%) had experienced domestic abuse since the age
of 16. These figures are equivalent to an estimated 4.5 million female
victims of domestic abuse and 2.6 million male victims."
In addition, "6% of women and 4% of men reported having experienced
domestic abuse in the past year, equivalent to an estimated one million
female victims of domestic abuse and 600,000 male victims".
Advertisement
Campaigners
claim that men are often treated as "second-class victims" and that
many police forces and councils do not take them seriously. "Male
victims are almost invisible to the authorities such as the police, who
rarely can be prevailed upon to take the man's side," said John Mays of
Parity. "Their plight is largely overlooked by the media, in official
reports and in government policy, for example in the provision of refuge
places – 7,500 for females in England and Wales but only 60 for men."
The official figures underestimate the true number of male victims,
Mays said. "Culturally it's difficult for men to bring these incidents
to the attention of the authorities. Men are reluctant to say that
they've been abused by women, because it's seen as unmanly and weak."
The number of women prosecuted for domestic violence rose from 1,575
in 2004-05 to 4,266 in 2008-09. "Both men and women can be victims and
we know that men feel under immense pressure to keep up the pretence
that everything is OK," said Alex Neil, the housing and communities
minister in the Scottish parliament. "Domestic abuse against a man is
just as abhorrent as when a woman is the victim."
Ref: The guardian, Sunday 5 September 2010.
নারী নির্যাতন মামলা : অধিকাংশই ভুয়া ও হয়রানিমূলক
পুরান ঢাকার নিমতলীর মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। ২০১১ সালে তার বিয়ে
বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করেছেন সাবেক
স্ত্রী। আপস-মীমাংসার কথা বলে এ পর্যন্ত আদায় করেছেন ছয় লাখ টাকা। মিথ্যা
মামলায় সাত মাস সাজাভোগও করেন নজরুল ইসলাম। সর্বশেষ গত বছরের ১২ জুলাই
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা
করেন তার সাবেক স্ত্রী। মামলাটির তদন্ত করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই
আসাদুজ্জামান তালুকদার। নজরুলকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত
প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। এতে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা সাতটি মামলার
তালিকা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা- যার সবগুলোই ওই নারীর করা। এসব মামলা থেকে
নজরুল ইতিমধ্যে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।
সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করায় ওই নারীকে ৪ এপ্রিল কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম। আদেশের পর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারী আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ব্যবসা-টাকা-সময় অপচয় করিয়েছে। আইন অনুসারে আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
শুধু নজরুল ইসলামই নন, এভাবে অনেক পুরুষই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করছে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতেই এরা এ আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে এ আইনটি হয়ে উঠেছে নির্যাতন ও হয়রানির বড় হাতিয়ার। প্রতিশোধ, স্বামীকে বাগে রাখা, শ্বশুর-শাশুড়িকে শায়েস্তা করা, প্রেম করে স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার কিংবা কোনো তুচ্ছ কারণে প্রায়ই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ আইনে মামলা করা হয়। কারণ, এ মামলায় আসামি সহজে জামিন পান না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সমাধানের পথ খোঁজে অনেকেই। তবে মিথ্যা মামলায় বাদীর সাজা নিতান্তই কম। ফলে ভুয়া ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো করতে দ্বিধা করছে না অপরাধী চক্র। বহু নিরপরাধী ওই চক্রের খপ্পরে পড়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাভোগ করছেন। ভুক্তভোগী হচ্ছেন তথাকথিত আসামিরা।
ঢাকার পাঁচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ আইনে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয় না। এর আগেই বাদী-বিবাদী আদালতের বাইরে সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। তাই অনেকে এসব মামলার অধিকাংশকেই মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মামলার নিষ্পত্তির হিসাব থেকে দেখা যায়, তিন মাসে ৯১৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২৯টি মামলায় আসামিদের অব্যাহতি ও ২৮৬টি মামলায় আসামিরা খালাস এবং ৪টি মামলায় আসামিরা সাজা পেয়েছেন।
জানতে চাইলে মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের যথাযথ বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ভুক্তভোগীদের রক্ষা করা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি হতাশাজনক। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে অনেকেই এ আইনের অপব্যবহার করছে। প্রায়ই দেখা যায়, এ আইনের অধীনে করা অধিকাংশ মামলাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয় না। যেমন বাদীর বাড়ি টাঙ্গাইল, কিন্তু সে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে ঢাকার যে কোনো ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকার আদালতে মামলা করেন।’
জানতে চাইলে ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি শম আবদুল আওয়াল বকুল যুগান্তরকে বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩ হাজার মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫শ’ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। চলমান ১৫শ’ মামলার মধ্যে নারী ও শিশু মামলা ১২শ’, পিটিশন মামলা ২০০ এবং মানব পাচারের ১০০ মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, আদালতে সাধারণত যৌতুকের জন্য মারধরের মামলাগুলো বেশি হয়। প্রমাণের অভাবে এ ধরনের ৯০ ভাগ মামলা খালাস হয়। এছাড়া সাক্ষীর অভাবে ৯০ ভাগ ধর্ষণ মামলা খালাস হয়।’
খালাসের একটি রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, যৌতুকের এক লাখ টাকার জন্য ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ রেহানা আক্তার রুমা তার স্বামী রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহআলী থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত মামলায় রুবেল জেলহাজতে ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ মে ওই থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করলে রেহানা আক্তার রুমা বলেন, ‘আসামি আমার স্বামী। তার সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে। তিনি মামলার দায় থেকে খালাস পেলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রুবেল মিয়াকে খালাস প্রদান করেন।
জানতে চাইলে দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় মামলায় সাজা হওয়ার ভয়ে টাকার বিনিময়ে আদালতের বাইরে আসামি ও বাদী পক্ষের আপস-মীমাংসা হয়ে যায়।
এ জন্য আদালতে অধিকাংশ মামলা খালাস হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সত্য ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী আসামির ভয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। মামলা হওয়ার পর বারবার সাক্ষীর সমন ফেরত আসে। সাক্ষীর অভাবে মামলা নিষ্পত্তি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘর-সংসার করার সমোঝতার ভিত্তিতেও মামলা আপস হয়। আবার মিথ্যা মামলায় অনেকেই ভুক্তভোগী হয়। পুরুষ নির্যাতনের শিকার হলেও পুরুষ নির্যাতন দমন আইন নেই বলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিছুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি মনে করি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যথেষ্ট ঠিক আছে। তদন্ত ঠিক মতো করলেই প্রতিটি মামলার প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যাবে।’
মিথ্যা মামলায় অনেক পুরুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন করার প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এখনও এটার প্রয়োজন আছে। তবে ভুক্তভোগী পুরুষরা আইনের সহায়তা চাইলে তাদের অবশ্যই তা দেয়া হবে।’
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, : ১২ এপ্রিল, ২০১৬
সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করায় ওই নারীকে ৪ এপ্রিল কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম। আদেশের পর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারী আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ব্যবসা-টাকা-সময় অপচয় করিয়েছে। আইন অনুসারে আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
শুধু নজরুল ইসলামই নন, এভাবে অনেক পুরুষই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করছে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতেই এরা এ আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে এ আইনটি হয়ে উঠেছে নির্যাতন ও হয়রানির বড় হাতিয়ার। প্রতিশোধ, স্বামীকে বাগে রাখা, শ্বশুর-শাশুড়িকে শায়েস্তা করা, প্রেম করে স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার কিংবা কোনো তুচ্ছ কারণে প্রায়ই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ আইনে মামলা করা হয়। কারণ, এ মামলায় আসামি সহজে জামিন পান না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সমাধানের পথ খোঁজে অনেকেই। তবে মিথ্যা মামলায় বাদীর সাজা নিতান্তই কম। ফলে ভুয়া ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো করতে দ্বিধা করছে না অপরাধী চক্র। বহু নিরপরাধী ওই চক্রের খপ্পরে পড়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাভোগ করছেন। ভুক্তভোগী হচ্ছেন তথাকথিত আসামিরা।
ঢাকার পাঁচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ আইনে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয় না। এর আগেই বাদী-বিবাদী আদালতের বাইরে সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। তাই অনেকে এসব মামলার অধিকাংশকেই মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মামলার নিষ্পত্তির হিসাব থেকে দেখা যায়, তিন মাসে ৯১৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২৯টি মামলায় আসামিদের অব্যাহতি ও ২৮৬টি মামলায় আসামিরা খালাস এবং ৪টি মামলায় আসামিরা সাজা পেয়েছেন।
জানতে চাইলে মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের যথাযথ বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ভুক্তভোগীদের রক্ষা করা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি হতাশাজনক। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে অনেকেই এ আইনের অপব্যবহার করছে। প্রায়ই দেখা যায়, এ আইনের অধীনে করা অধিকাংশ মামলাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয় না। যেমন বাদীর বাড়ি টাঙ্গাইল, কিন্তু সে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে ঢাকার যে কোনো ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকার আদালতে মামলা করেন।’
জানতে চাইলে ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি শম আবদুল আওয়াল বকুল যুগান্তরকে বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩ হাজার মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫শ’ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। চলমান ১৫শ’ মামলার মধ্যে নারী ও শিশু মামলা ১২শ’, পিটিশন মামলা ২০০ এবং মানব পাচারের ১০০ মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, আদালতে সাধারণত যৌতুকের জন্য মারধরের মামলাগুলো বেশি হয়। প্রমাণের অভাবে এ ধরনের ৯০ ভাগ মামলা খালাস হয়। এছাড়া সাক্ষীর অভাবে ৯০ ভাগ ধর্ষণ মামলা খালাস হয়।’
খালাসের একটি রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, যৌতুকের এক লাখ টাকার জন্য ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ রেহানা আক্তার রুমা তার স্বামী রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহআলী থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত মামলায় রুবেল জেলহাজতে ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ মে ওই থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করলে রেহানা আক্তার রুমা বলেন, ‘আসামি আমার স্বামী। তার সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে। তিনি মামলার দায় থেকে খালাস পেলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রুবেল মিয়াকে খালাস প্রদান করেন।
জানতে চাইলে দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় মামলায় সাজা হওয়ার ভয়ে টাকার বিনিময়ে আদালতের বাইরে আসামি ও বাদী পক্ষের আপস-মীমাংসা হয়ে যায়।
এ জন্য আদালতে অধিকাংশ মামলা খালাস হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সত্য ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী আসামির ভয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। মামলা হওয়ার পর বারবার সাক্ষীর সমন ফেরত আসে। সাক্ষীর অভাবে মামলা নিষ্পত্তি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘর-সংসার করার সমোঝতার ভিত্তিতেও মামলা আপস হয়। আবার মিথ্যা মামলায় অনেকেই ভুক্তভোগী হয়। পুরুষ নির্যাতনের শিকার হলেও পুরুষ নির্যাতন দমন আইন নেই বলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিছুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি মনে করি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যথেষ্ট ঠিক আছে। তদন্ত ঠিক মতো করলেই প্রতিটি মামলার প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যাবে।’
মিথ্যা মামলায় অনেক পুরুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন করার প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এখনও এটার প্রয়োজন আছে। তবে ভুক্তভোগী পুরুষরা আইনের সহায়তা চাইলে তাদের অবশ্যই তা দেয়া হবে।’
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, : ১২ এপ্রিল, ২০১৬
পুরুষ নির্যাতন আইন হওয়া উচিত
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও চরমোনাই দরবার শরিফের পীর হজরত
মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা নারী ও পুরুষকে
সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সময়ই নারীদের মাথায় পুরুষের চেয়ে বুদ্ধি (ঘিলু) কম
দিয়েছেন বিধায় নারীদের সমঅধিকার দাবি অযৌক্তিক। এ দেশে কয়টা নারী আর কয়টা
পুরুষ নির্যাতন হয় তা আমি জানি। দেশে নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি নির্যাতিত
হচ্ছে। নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতন আইন হওয়া উচিত।
আমরা ক্ষমতায় এলে পুরুষ নির্যাতন আইন পাস করব। শুক্রবার রাতে
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকীবন্দর ভিক্টোরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে
ওয়াজমাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। টরকীবন্দর
মুজাহিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওয়াজমাহফিলে এসএম নজরুল আমীন মন্টুর
সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন মাদারীপুর পুলিশ লাইন জামে মসজিদের প্রধান
খতিব হজরত মাওলানা আনোয়ার-উল-ইসলাম জিহাদী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ
থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া হবে ঘোষণা দেয়া
হয়। বক্তব্য শেষে চরমোনাইর পীর বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের দলীয়
মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসানকে মুসল্লিদের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেন।
এখন দাবি দেশে পুরুষ নির্যাতন আইন হোক
সব সময় পিছিয়ে পড়াদের দলেই নাম লিখিয়েছেন নারীরা। সমাজ, সভ্যতা এবং আমাদের
চিন্তা-ভাবনাই এর জন্য মূলত দায়ী। তাই আধুনিক সময়ে নারীদের এগিয়ে আনতে চলছে
নানা ধরনের চেষ্টা।
এজন্য বিভিন্ন দেশে নারীদের অধিকার রক্ষাসহ অন্যান্য সুবিধা বেশি দিয়ে পুরুষের সমান করার চেষ্টা চলছে।
এই অবস্থার বাইরে নয় বাংলাদেশও। তবে নারীদের অধিকার আদায়ে নানা আইন ও সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো কতটুকু সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়েই প্রশ্ন তুললেন নারায়ণগঞ্জের আবু বকর সিদ্দিক ও শেখ খায়রুল আলম।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সবক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান অধিকার। নারী নির্যাতন আইন আছে, পুরুষ নির্যাতন আইন চাই।' -এমনই একটি ব্যানার নিয়ে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতের সামনে অবস্থান নেন ওই দুই ব্যক্তি।
তাদের দাবি, নারী নির্যাতন আইনসহ অন্যান্য সুবিধা নিয়ে তাদের স্ত্রীরা উনাদের উপর নির্মম নির্যাতন। এ সময় তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নারী নির্যাতনের শিকার আরও অনেক পুরুষ ব্যানার ধরে দাঁড়ায়।
সোনারগাঁও কাঁচপুর চেঙ্গাইন এলাকার আমির উদ্দীনের ছেলে আবু বকরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪ সালে বন্দর লাঙ্গলবন্দ এলাকার নারগিস আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। আশা ছিল সুখের সংসার গড়বেন। তবে তা আর হয়ে উঠেনি।
আবু বকরের দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবী পরিধান পছন্দ করতেন না তার স্ত্রী। আর এ নিয়েই অশান্তির শুরু। বিয়ের পর সাদিয়া নামে এক কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও সুখ আর আসেনি তার জীবনে।
দুঃখের কথা জানিয়ে আবু বকর বলেন, ধীরে ধীরে স্ত্রী পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। চলে দাম্পত্য কলহ। এক সময় আমার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে সে। পারিবারিক আদালতে পৃথক আরও একটি মামলা করে। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া চার দফা জেলও খাটতে হয়।
২০০৯ সালে র্যাবের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে আমার উপর নির্যাতনও চালায় নারগিস। এখন সব হারিয়ে আমি পথে বসেছি।
ফতুল্লার ভুঁইগর পশ্চিমপাড়া এলাকার শেখ সাহা আলমের ছেলে শেখ খায়রুল আলমের গল্পটাও অনেকটাই এমন। বিশেষ আইনের সুবিধা নিয়ে তার স্ত্রীও চালিয়েছে নির্যাতন। যার কারণে আজ অনেকটাই নিঃস্ব তিনি।
খায়রুল জানান, ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকার আজাহার মিয়ার মেয়ে শারমিন আফরোজাকে গোপনে বিয়ে করেন। কথা ছিল আফরোজার প্রবাসী ভাই ও দুলা ভাই দেশে ফিরলে বউ উঠিয়ে আনবেন। এজন্য শ্বশুরালয়ে অবস্থানকালে প্রতিমাসে বউকে খরচও দিতেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন আফরোজা। তবে তিনি নতুন সংসারে স্বাভাবিক আচরণ করতেন না বলে অভিযোগ খায়রুলের।
খায়রুল বলেন, সংসারে এসে প্রায়ই সে ঝগড়া করতো। এ অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ ২০১৪ সালের ৩১ মে আফরোজা বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে তালাক ও দেনমোহর বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করে। এজন্য লোকজন দিয়ে মারধরসহ হত্যার হুমকি ধামকিও দেয়।
এরপর একদিন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই সোহাগ পরিচয়ে একজন ফোন দেন। তিনি বলেন, আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। বাঁচতে চাইলে এক লাখ টাকা নিয়ে দেখা করুন। না হলে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে জেল খাটাবো।
নিজেদের দুরবস্থা ও স্ত্রীদের নির্যাতনের গল্প শুনিয়ে নির্যাতিত দুই পুরুষেরই এখন দাবি দেশে পুরুষ নির্যাতন আইন হোক। যাতে নারী নির্যাতন আইনের মিথ্যা সুযোগ নিয়ে নারীরা যাতে আর কোনো পুরুষের উপর নির্যাতন চালাতে না পারে।
পুরষ নির্যাতন আইন করে সারা বাংলার পুরুষদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
এই অবস্থার বাইরে নয় বাংলাদেশও। তবে নারীদের অধিকার আদায়ে নানা আইন ও সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো কতটুকু সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়েই প্রশ্ন তুললেন নারায়ণগঞ্জের আবু বকর সিদ্দিক ও শেখ খায়রুল আলম।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সবক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান অধিকার। নারী নির্যাতন আইন আছে, পুরুষ নির্যাতন আইন চাই।' -এমনই একটি ব্যানার নিয়ে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতের সামনে অবস্থান নেন ওই দুই ব্যক্তি।
তাদের দাবি, নারী নির্যাতন আইনসহ অন্যান্য সুবিধা নিয়ে তাদের স্ত্রীরা উনাদের উপর নির্মম নির্যাতন। এ সময় তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নারী নির্যাতনের শিকার আরও অনেক পুরুষ ব্যানার ধরে দাঁড়ায়।
সোনারগাঁও কাঁচপুর চেঙ্গাইন এলাকার আমির উদ্দীনের ছেলে আবু বকরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪ সালে বন্দর লাঙ্গলবন্দ এলাকার নারগিস আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। আশা ছিল সুখের সংসার গড়বেন। তবে তা আর হয়ে উঠেনি।
আবু বকরের দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবী পরিধান পছন্দ করতেন না তার স্ত্রী। আর এ নিয়েই অশান্তির শুরু। বিয়ের পর সাদিয়া নামে এক কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও সুখ আর আসেনি তার জীবনে।
দুঃখের কথা জানিয়ে আবু বকর বলেন, ধীরে ধীরে স্ত্রী পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। চলে দাম্পত্য কলহ। এক সময় আমার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে সে। পারিবারিক আদালতে পৃথক আরও একটি মামলা করে। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া চার দফা জেলও খাটতে হয়।
২০০৯ সালে র্যাবের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে আমার উপর নির্যাতনও চালায় নারগিস। এখন সব হারিয়ে আমি পথে বসেছি।
ফতুল্লার ভুঁইগর পশ্চিমপাড়া এলাকার শেখ সাহা আলমের ছেলে শেখ খায়রুল আলমের গল্পটাও অনেকটাই এমন। বিশেষ আইনের সুবিধা নিয়ে তার স্ত্রীও চালিয়েছে নির্যাতন। যার কারণে আজ অনেকটাই নিঃস্ব তিনি।
খায়রুল জানান, ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকার আজাহার মিয়ার মেয়ে শারমিন আফরোজাকে গোপনে বিয়ে করেন। কথা ছিল আফরোজার প্রবাসী ভাই ও দুলা ভাই দেশে ফিরলে বউ উঠিয়ে আনবেন। এজন্য শ্বশুরালয়ে অবস্থানকালে প্রতিমাসে বউকে খরচও দিতেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন আফরোজা। তবে তিনি নতুন সংসারে স্বাভাবিক আচরণ করতেন না বলে অভিযোগ খায়রুলের।
খায়রুল বলেন, সংসারে এসে প্রায়ই সে ঝগড়া করতো। এ অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ ২০১৪ সালের ৩১ মে আফরোজা বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে তালাক ও দেনমোহর বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করে। এজন্য লোকজন দিয়ে মারধরসহ হত্যার হুমকি ধামকিও দেয়।
এরপর একদিন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই সোহাগ পরিচয়ে একজন ফোন দেন। তিনি বলেন, আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। বাঁচতে চাইলে এক লাখ টাকা নিয়ে দেখা করুন। না হলে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে জেল খাটাবো।
নিজেদের দুরবস্থা ও স্ত্রীদের নির্যাতনের গল্প শুনিয়ে নির্যাতিত দুই পুরুষেরই এখন দাবি দেশে পুরুষ নির্যাতন আইন হোক। যাতে নারী নির্যাতন আইনের মিথ্যা সুযোগ নিয়ে নারীরা যাতে আর কোনো পুরুষের উপর নির্যাতন চালাতে না পারে।
পুরষ নির্যাতন আইন করে সারা বাংলার পুরুষদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পুরুষদের নির্যাতিত করছেন নারীরা
আমার স্ত্রীর নাম জেসমিন আক্তার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আমাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট, গাড়ি কিনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে
থাকে তার পরিবার। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নারী
নির্যাতন আইনে মামলা করার হুমকি দেয়। এমনকি আমাকে তালাক দেয়ারও হুমকি দেয়
আমার স্ত্রী। বাধ্য হয়েই আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছি।
আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেতে চাই।
সম্প্রতি যুগান্তরের কাছে কথাগুলো বলছিলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. এএসএম নাজমুল ইসলাম। আর বিচার
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নানাভাবে পুরুষদের নির্যাতিত করছেন
নারীরা। বিশেষ করে পুরুষদের ঘায়েল করতে যৌতুককে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহার করছেন অনেক নারী। তাদের যৌতুকের লোভের বলি হচ্ছেন অসংখ্য পুরুষ। যে
কারণে ভাঙছে সংসার। তৈরি হচ্ছে পারিবারিক অস্থিরতা। এছাড়াও সম্পত্তির লোভে
অনেক নারী প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন পুরুষদের। ডাক্তার নাজমুলের মতো
নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক পুরুষ বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। গত দশ
বছরে শতাধিক পুরুষ ঢাকার বিভিন্ন নিু আদালতে নারীদের বিরুদ্ধে যৌতুক ও
প্রতারণা মামলা করেছেন, যা বিচারাধীন।এ
প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী
পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী গত ১৯ জুলাই টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন,
নারীদের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করছেন পুরুষেরা, বিষয়টা দুঃখজনক। তবে সত্য
কথা যে, অনেক মেয়ে একটার পর একটা বিয়ে করে যাচ্ছে। মেয়েরাও ছেলেদের
ব্ল্যাকমেইল করছে। নিরীহ অনেক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে
নিচ্ছে তারা। অনেক নারী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে অকালেই
ভাঙছে সংসার। নারী ও পুরুষ যেই অপরাধী হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা দরকার।ঢাকা
আইনজীবী সমিতির সভাপতি মহসিন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, অনেক নারী পুরুষকে
নির্যাতিত করছেন। এ ধরনের ঘটনা বর্তমান সমাজে ঘটছে। এমন অনেক নারী আছেন
যারা সমাজের নিয়মকানুন মানছেন না। পুরুষকে হয়রানি করছেন। নারী কিংবা পুরুষ
যেই অপরাধ করুক তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।যৌতুক
নিরোধ আইনের চার ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ক্ষেত্র মতে বর বা
কনের পিতামাতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো যৌতুক
দাবি করে, তাহলে সে পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বছর মেয়াদের
কম নহে, কারাদণ্ডে বা জরিমানায় বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।ঢাকার
২৮ নম্বর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন ২৫৩/১৩ মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা
করে জানা গেছে, ছাব্বিশ বছর বয়সী যুবক শামসুর রহমান শামছু।
রাজধানীর শাহবাগে একটি টেলিফোনের দোকানের মালিক তিনি। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার আবদুল গোফরানের মেয়ে মাহমুদা আক্তার উর্মিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তিন লাখ টাকার দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পাদিত হয়। বিয়ের পর শামসু ওয়ারীর ১০৪/১ বনগ্রাম রোডের মর্জিনা মহলে ভাড়া বাসায় উর্মিকে নিয়ে সংসার করতে থাকেন। স্ত্রীর সব লেখাপড়ার খরচ ব্যয় করেন তিনি। তারই বদৌলতে উর্মি গত বছর এইচএসসি পাস করেন। বিয়ের পর প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে সোনার গহনা কিনে দেন তার স্ত্রীকে। গত বছরের ৪ জানুয়ারি ওয়ারীর বাসায় আসে শ্বশুর গোফরান। এ সময় শামসুর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। এই বলে হুমকি দেন যে, ৫ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তার মেয়ে সংসার করবে না, টাকা না দিলে তাদের মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেবেন। আর গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রীর কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করে শামসু বলেন যে, তার সঙ্গে সংসার করতে। সেদিন তার স্ত্রী শামসুকে জানিয়ে দেন যে, ৫ লাখ টাকা না দিলে সে সংসার করবে না।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শামসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ভালোবেসে আমি আমার স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলাম। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। সেই স্ত্রী ও তার বাবা আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমার স্ত্রী ও শ্বশুরে এখন একটাই দাবি, ৫ লাখ টাকা দিলে আমার সঙ্গে সংসার করবে সে। আদালত এর বিচার করবেন। শামসুর রহমানের আইনজীবী প্রকাশরঞ্জন বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, হয়রানির জন্য অনেক নারীই আদালতে পুরুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন। আমার পেশাগত জীবনে এ ধরনের অনেক ঘটনা দেখেছি। যৌতুক না দেয়ার কারণে অনেক নারী পুরুষকে তালাক দিচ্ছেন। এভাবে অনেকের সংসার ভাঙছে, যা কারো কাম্য নয়।আরেকটি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় করে জানা যায়, হাবিব আমেরিকার নাগরিক। আর তনুজা বাংলাদেশী নাগরিক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। তনুজা ও হাবিবের মধ্যে বিয়ে হয় ২০১১ সালের ১৭ মে। ১১ লাখ টাকা দেনমোহরে দুজনের মধ্যে বিয়ে সম্পাদিত হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে গত বছরের মে মাসে তনুজা হাবিবের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলা তদন্ত করে সিআইডি তনুজার প্রতারণার মামলাকে মিথ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে। মিথ্যা মামলার দায়ে তনুজার বিরুদ্ধে হাবিব আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় তনুজা গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে তিনি জামিন পান।মামলার ব্যাপারে হাবিব যুগান্তরকে বলেন, তনুজা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে সুবিধা নিতে চেয়েছিল। আমাদের বিয়ের কাবিন ছিল ১১ লাখ টাকা। অথচ সে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ লাখকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকার জাল কাবিননামা তৈরি করে, যা সিআইডির তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। সেই মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছি। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। হাবিব আরও বলেন, আমাদের বিয়ের কিছুদিন পর আমার নিজের ফ্ল্যাট তার নামে লিখে দিতে বলে। লিখে না দিলে আমাকে ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার হুমকি দেন তনুজা। এ ব্যাপারে তনুজার আইনজীবী আবদুল হামিদ খান রানা যুগান্তরকে বলেন, তনুজা হয়রানির শিকার। তিনি কোনো জাল-জালিয়াতি করেননি। বাদী পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তনুজার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। হাবিবের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, তনুজা মৌসুমী আমার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। সিআইডির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত তনুজার মামলা খারিজ করে দেন। মিথ্যা মামলা করার কারণে তার বিরুদ্ধে আমরা আদালতে মামলা করেছি।
ওবায়েদ অংশুমান | প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৪; দৈনিক যুগান্তর
রাজধানীর শাহবাগে একটি টেলিফোনের দোকানের মালিক তিনি। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার আবদুল গোফরানের মেয়ে মাহমুদা আক্তার উর্মিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তিন লাখ টাকার দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পাদিত হয়। বিয়ের পর শামসু ওয়ারীর ১০৪/১ বনগ্রাম রোডের মর্জিনা মহলে ভাড়া বাসায় উর্মিকে নিয়ে সংসার করতে থাকেন। স্ত্রীর সব লেখাপড়ার খরচ ব্যয় করেন তিনি। তারই বদৌলতে উর্মি গত বছর এইচএসসি পাস করেন। বিয়ের পর প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে সোনার গহনা কিনে দেন তার স্ত্রীকে। গত বছরের ৪ জানুয়ারি ওয়ারীর বাসায় আসে শ্বশুর গোফরান। এ সময় শামসুর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। এই বলে হুমকি দেন যে, ৫ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তার মেয়ে সংসার করবে না, টাকা না দিলে তাদের মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেবেন। আর গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রীর কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করে শামসু বলেন যে, তার সঙ্গে সংসার করতে। সেদিন তার স্ত্রী শামসুকে জানিয়ে দেন যে, ৫ লাখ টাকা না দিলে সে সংসার করবে না।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শামসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ভালোবেসে আমি আমার স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলাম। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। সেই স্ত্রী ও তার বাবা আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমার স্ত্রী ও শ্বশুরে এখন একটাই দাবি, ৫ লাখ টাকা দিলে আমার সঙ্গে সংসার করবে সে। আদালত এর বিচার করবেন। শামসুর রহমানের আইনজীবী প্রকাশরঞ্জন বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, হয়রানির জন্য অনেক নারীই আদালতে পুরুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন। আমার পেশাগত জীবনে এ ধরনের অনেক ঘটনা দেখেছি। যৌতুক না দেয়ার কারণে অনেক নারী পুরুষকে তালাক দিচ্ছেন। এভাবে অনেকের সংসার ভাঙছে, যা কারো কাম্য নয়।আরেকটি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় করে জানা যায়, হাবিব আমেরিকার নাগরিক। আর তনুজা বাংলাদেশী নাগরিক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। তনুজা ও হাবিবের মধ্যে বিয়ে হয় ২০১১ সালের ১৭ মে। ১১ লাখ টাকা দেনমোহরে দুজনের মধ্যে বিয়ে সম্পাদিত হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে গত বছরের মে মাসে তনুজা হাবিবের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলা তদন্ত করে সিআইডি তনুজার প্রতারণার মামলাকে মিথ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে। মিথ্যা মামলার দায়ে তনুজার বিরুদ্ধে হাবিব আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় তনুজা গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে তিনি জামিন পান।মামলার ব্যাপারে হাবিব যুগান্তরকে বলেন, তনুজা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে সুবিধা নিতে চেয়েছিল। আমাদের বিয়ের কাবিন ছিল ১১ লাখ টাকা। অথচ সে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ লাখকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকার জাল কাবিননামা তৈরি করে, যা সিআইডির তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। সেই মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছি। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। হাবিব আরও বলেন, আমাদের বিয়ের কিছুদিন পর আমার নিজের ফ্ল্যাট তার নামে লিখে দিতে বলে। লিখে না দিলে আমাকে ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার হুমকি দেন তনুজা। এ ব্যাপারে তনুজার আইনজীবী আবদুল হামিদ খান রানা যুগান্তরকে বলেন, তনুজা হয়রানির শিকার। তিনি কোনো জাল-জালিয়াতি করেননি। বাদী পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তনুজার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। হাবিবের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, তনুজা মৌসুমী আমার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। সিআইডির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত তনুজার মামলা খারিজ করে দেন। মিথ্যা মামলা করার কারণে তার বিরুদ্ধে আমরা আদালতে মামলা করেছি।
ওবায়েদ অংশুমান | প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৪; দৈনিক যুগান্তর
Subscribe to:
Posts (Atom)